শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

কক্সবাজারে ১৫ দিনে ১৬ লাখ পর্যটক; ব্যবসা ১৬০০ কোটি টাকা

নুপা আলম : বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে গত ১৫ দিনে অনুমানিক ১৬ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন। আর এই ১৫ দিনে পর্যটন সংশ্লিষ্টখাতে আনুমানিক এক হাজার ৬ শত কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ীদের সংগঠন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে এমন তথ্য মিলেছে। উভয় পক্ষ বলেছেন, কক্সবাজার মোট কত জন পর্যটক ভ্রমণে আসেন এবং কত টাকা ব্যবসা হয়েছে তার সুনিদিষ্র্ট কোন তথ্য পাওয়া যাবে না। এই নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যাও নেই। তবে আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজের সংখ্যা এবং ধারণ ক্ষমতার কক্ষ বিবেচনায় গত ১৫ দিনে ১৬ লাখের কম বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

তিনি জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমণ বাড়তে থাকে। টানা ১৫ দিন ধরে (শুক্রবার পর্যন্ত) কক্সবাজারে পর্যটকের ভীড় ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। শনিবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কক্সবাজারে বিভিন্ন মানের সাড়ে ৫ শত আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ২০ হাজারের কম বেশি পর্যটক রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। গত ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে কখনও ১ লাখের বেশি আবার কখনও লাখের কিছুটা কম পর্যটক এসেছেন। এই হিসেব মতে ১৫ দিনের ১৬ লাখের কম বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন বলে ধারণা করা যাবে।

আর এই ১৬ লাখ পর্যটকের আবাসিক হোটেল মোটেলে অবস্থান নেয়া আবাসিক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ২১০ কোটি টাকা ব্যবসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবুল কাশেম সিকদার। তিনি বলেন, কক্সবাজারে সাড়ে ৫ শত আবাসিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ টি ভাগে বিভক্ত রয়েছে। যেখানে বিলাসবহুল ও তারকা মানের ১ শত প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ করে ১০ কোটি টাকা, ২ শত মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ করে ২ কোটি টাকা, তার নিচে কম রুম বিশিষ্ট ২ শত প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার করে এক কোটি টাকা, কটেজ ও গেস্ট হাউজ মানের ৫০ টি প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার করে ১ কোটি টাকা ব্যবসা হয়েছে। এই হিসেব মতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ কোটি টাকা করে ১৫ দিনে ২১০ কোটি টাকা ব্যবসা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতি কক্সবাজার জেলার সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমপক্ষে ৫ শত রেস্তোঁরা রয়েছে। এর মধ্যে ১২০ টি রেস্তোঁরা সমিতির সদস্যভূক্ত। সব প্রতিষ্ঠান একই মানের বিবেচনা করা সম্ভব না। তবে ১২০ টি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ের ব্যবসা পরিসংখ্যা বিবেচনায় গত ১৫ দিনের আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা ব্যবসা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যাবে।

রেস্তোঁরা মালিক সমিতির এই নেতার তথ্য মতে ১২০ টি প্রতিষ্ঠানে ১৫ দিনে ৩০ কোটি টাকা ব্যবসা হলে প্রতি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে গড়ে ব্যবসা হয়েছে ২৫ লাখ করে। যে হিসেবে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেস্তোঁরার সংখ্যা ৫ শত হলে ব্যবসার পরিমাণ আনুমানিক ৭৫ কোটি টাকা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, কক্সবাজারে আগত পর্যটকের সংখ্যা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসার সংখ্যাটি পুরোটাই আনুমানিক ধারণার উপর বলা হয়। সুনিদিষ্ট কোন পরিসংখ্যা পাওয়া যায় না। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৫ শত আবাসিক হোটেল মোটেল, ৫ শত রেস্তোঁরা, বামির্জ মার্কেট সহ নানা দোকান, দূর পাল্লার পরিবহণ, সেন্টমার্টিনের জাহাজ, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ, শামুক-ঝিনুক দোকান, অভ্যন্তরে ইজি বাইক সহ নানা পরিবহণ জড়িত।

তিনি বলেন, ভ্রমণে আসবে পর্যটকরা কম হলে যেমন ১০ হাজার টাকা খচর করেন, আবার অনেকেই লাখ টাকাও খচর করেন। যদি ১৫ দিনে ১৬ লাখ পর্যটক এসেছেন বলে ধরে নেয়া হয় তাহলে এই ১৫ দিনে জনপ্রতি কম হলে ১০ হাজার টাকা খচর ধরা হলে ব্যবসার হয়েছে ১ হাজার ৬ শত কোটি টাকার বেশি।

এদিকে, টানা ১৫ দিনে ধরে পর্যটকের ভীড় থাকলেও শনিবার থেকে কিছু কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি জানিয়েছেন, কমলেও পর্যটক জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আসবেন বলে ধরে নেয়া যাবে। জানুয়ারি পর্যন্ত আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ৩০-৪০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।

সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহি জাহাজ মালিকেদের সংগঠন সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, গত ১৫ দিন ধরেই সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের চাপ রয়েছে। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত মতে ২ হাজারের বেশি পর্যটক নেয়া যাচ্ছে না। ফলে ১৫ দিনে চাপ থাকলেও ৩০ হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণে যেতে পেরেছেন। এখনও অনেক পর্যটক শুধু সেন্টমার্টিন ভ্রমনে যেতে কক্সবাজার আসছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন ছাড়াও পর্যটকরা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ হয়ে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ বিহার, বামির্জ মাকের্ট, সোনাদিয়া, আদিনাথ পাহাড় সহ বিভিন্ন স্পটে ভ্রমণে যাচ্ছেন। আর এসব পর্যটকদের নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা, ট্যুরিস্ট ও ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। হয়রানী রোধে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রটও।

কক্সবাজার জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, টানা বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে আসছেন। ফলে সড়কে কিছুটা যানবাহন বেড়েছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তা রোধে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পোষাকধারী টহল, অবস্থান ছাড়াও সাদা পোষাকে নজরধারী বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্পটে অভিযোগ বক্স স্থাপন করে পর্যটকের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন জানিয়েছেন, পর্যটকের হয়রানী রোধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কয়েকটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে সর্তকও করা হয়েছে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888